বাড়ির পেছনে এক পুরোনো বটগাছ, যার শিকড় মাটির বুক ছুঁয়ে বলে — “এখানে এক সময় গফুর আলী খান হেঁটেছিলেন।”
তার বড় ছেলে নেসার তখন ছোট্ট, পুকুরে কাঁঠালের চোরা ফেলে মাছ ধরার তালিম নিচ্ছে। ছাবিজান বেওয়া উঠোনে ধান শুকাচ্ছেন, পাশে রাহেলা আলো হাঁসের খাঁচা ধোচ্ছেন।
শীতের বিকেলে সবাই মিলে এক হাঁড়ি খেজুর রসের পায়েস খাচ্ছে। নেসার হঠাৎ জিজ্ঞেস করে,
“আব্বা, এত মানুষ, এত গল্প—সব মনে রাখবা কীভাবে?”
গফুর আলী খান হেসে বলেন,
“মনে না রাখলে ইতিহাস হারায়। আর ইতিহাস হারালে নিজেরাই একদিন ভুলে যাবো আমরা কারা।”
বছরের পর বছর কেটে যায়। ছেলেরা শহরে চলে যায়, মেয়েরা ঘর সাজায় নতুন ঠিকানায়। কিন্তু সেই পুরোনো বটগাছটা এখনো দাঁড়িয়ে, তার প্রতিটি শিকড়ে জড়িয়ে আছে একেকটা নাম, একেকটা গল্প।
এভাবেই জন্ম নেয় “খা গুষ্টি”—শুধু একটা নাম নয়,
একটা বংশ, একটা ইতিহাস, একটা ভালোবাসার শেকড়।