Skip to content Skip to main navigation Skip to footer

Kha Gusti BG

শেকড়ের ডাক — খা গুষ্টির গল্প

বাড়ির পেছনে এক পুরোনো বটগাছ, যার শিকড় মাটির বুক ছুঁয়ে বলে — “এখানে এক সময় গফুর আলী খান হেঁটেছিলেন।”

তার বড় ছেলে নেসার তখন ছোট্ট, পুকুরে কাঁঠালের চোরা ফেলে মাছ ধরার তালিম নিচ্ছে। ছাবিজান বেওয়া উঠোনে ধান শুকাচ্ছেন, পাশে রাহেলা আলো হাঁসের খাঁচা ধোচ্ছেন।

শীতের বিকেলে সবাই মিলে এক হাঁড়ি খেজুর রসের পায়েস খাচ্ছে। নেসার হঠাৎ জিজ্ঞেস করে,
“আব্বা, এত মানুষ, এত গল্প—সব মনে রাখবা কীভাবে?”
গফুর আলী খান হেসে বলেন,
“মনে না রাখলে ইতিহাস হারায়। আর ইতিহাস হারালে নিজেরাই একদিন ভুলে যাবো আমরা কারা।”

Read more

featured female

জাহানারা বেগম: আমাদের গুষ্টির রোদেলা হাসি

খা গুষ্টির উঠোনে যদি কারও নাম বললে সঙ্গে সঙ্গে হেসে ফেলতে হয়, তবে সে নাম — জাহানারা বেগম।

সে যেন গফুর আলীর ঘরের সূর্য।
সবচেয়ে বড় মেয়ে, কিন্তু একটুও ‘বড় মেয়ে সুলভ’ ভয় দেখানো কড়াকড়ি নেই ওর মধ্যে।

ছোটবেলায় নাকি ভোরে ভোরে হাঁসের পেছনে দৌড়ে পুকুরে ঝাঁপ দিত। আর মুখে মুখে গান গাইত —
“আমি জাহানারা, গানের তারা, রান্না করি আর হই চিল্লাপাড়া!”

Read more

featured male

নাজিম উদ্দিন খান: যার কণ্ঠে ছিল সাহসের ধ্বনি

গফুর আলী খানের বংশে অনেকেই চুপচাপ, গম্ভীর স্বভাবের। কিন্তু যখন উঠোনে দাঁড়িয়ে কেউ বলেন,
“এই জমিন আমার, এই ঘাম আমার—আমি হার মানি না!”
তখন সবাই জানে —
নাজিম উদ্দিন খান কথা বলছেন।

তাঁর গলা শুনলে মনে হয় যেন মেঘের গর্জন, অথচ সে গর্জনের মধ্যে আছে দায়িত্বের কোমল ছায়া।
শুধু বড় গলা নয়, তাঁর কণ্ঠে ছিল নেতৃত্ব, সাহস আর সত্য বলার সৎ স্পর্ধা।

শৈশবে মা-বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন। কাঁধে লাঙল, হাতে ধানির বস্তা।

Read more

family

বাহার আলী খা ও তাঁর দুইতলা সংসার

অনেক অনেক বছর আগে, যখন বাড়ির উঠানে আমগাছের ছায়া ছড়িয়ে থাকত, আর কলসিতে পানি তুলে মুখ ধোয়ার পর সবাই মুখে বলত, “আলহামদুলিল্লাহ”—সেই সময়েই এক সাহসী, চুপচাপ কিন্তু সিদ্ধান্তে পাকা মানুষ ছিলেন, বাহার আলী খা।

এমন কেউ, যিনি স্যান্ডেলের এক পাটি হারিয়ে ফেললেও বলতেন,
“ভালই হইছে, পায়ে এখন হাওয়া লাগবে!”

তিনি বিয়ে করলেন। ঘর আলো করল এক ছেলে আর সাতজন চঞ্চল কন্যা।
ওই বাড়িতে প্রতিদিন মনে হতো যেন সাতটা মৌমাছি আর একটা ঢেউচি মাছ একসাথে উঠোনে দৌড়াচ্ছে।

Read more

Kha Gusti

খা গোষ্ঠী ও হারানো মোরগের রহস্য

খা পরিবারের ইতিহাস তো অনেক লম্বা, কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন গুষ্ঠির সবাই থাকত এক উঠোনেই—
একদিকে দোচালা ঘর, অন্যদিকে বাঁশের ঝাড়, আর মাঝখানে একটা লাল টিনের মুরগির ঘর।

সে ঘরেরই রাজা ছিল এক মোরগ —
“আলতা ভাই” নামে পরিচিত।
লাল ঝুঁটি, সোনালী পালক, আর গলা ফাটানো ডাকে সে গোটা পাড়ার ঘুম ভাঙাত।

সকালে না উঠতেই সবাই বলত,
“আলতা ভাই আজ ডাকেনি? কিছু একটা গণ্ডগোল!”

Read more

Kha Gusti

খা গোষ্ঠী ও সেই বিখ্যাত পায়েসের বিপর্যয়

খা পরিবারে একবার বিশাল মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হয়েছিল।
পাড়ার ৫ গলি দূর পর্যন্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—
“এই শুক্রবার, মিলাদ আছে খা বাড়িতে। পায়েস থাকবে।”
(লোকজন পায়েসের জন্যই আসে, সেটা সবাই জানে!)

রান্নার দায়িত্ব ছিল সবার প্রিয় ‘ছোট খালা’-র হাতে।
তিনি রান্না করেন আর বলেন,
“আমার হাতের পায়েস খেয়ে মানুষ চায়ের দোকান ছেড়ে দিয়েছে!”

Read more