খা পরিবারের ইতিহাস তো অনেক লম্বা, কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন গুষ্ঠির সবাই থাকত এক উঠোনেই—
একদিকে দোচালা ঘর, অন্যদিকে বাঁশের ঝাড়, আর মাঝখানে একটা লাল টিনের মুরগির ঘর।
সে ঘরেরই রাজা ছিল এক মোরগ —
“আলতা ভাই” নামে পরিচিত।
লাল ঝুঁটি, সোনালী পালক, আর গলা ফাটানো ডাকে সে গোটা পাড়ার ঘুম ভাঙাত।
সকালে না উঠতেই সবাই বলত,
“আলতা ভাই আজ ডাকেনি? কিছু একটা গণ্ডগোল!”
গল্পটা শুরু সেখান থেকেই—
এক সকালে মোরগটা নিখোঁজ!
পুরো খা পরিবারে হইচই লেগে গেল।
মেজ চাচা বললেন,
“এটা নিঃসন্দেহে পাশের বাড়ির ষড়যন্ত্র!”
বড় চাচি বললেন,
“আমি তো বলেছিলাম, ওর চোখে বদনজর লেগেছে।”
ছোট ভাইপোরা তখন গোয়েন্দা বনে গেছে—
কে কী খেল, কে কোথায় গেল, এমনকি গাছের পাখিও সন্দেহের তালিকায় ঢুকে গেল।
কেউ বলল,
“আল্লাহর কসম, আমি স্বপ্নে দেখেছি আলতা ভাই এখনো বেঁচে আছে, সে বনে গেছে!”
তিনদিন পর হঠাৎ—
একজন দৌঁড়ে এসে বলল,
“আলতা ভাই মেজো মামার ঘরের নিচে ডিম দিচ্ছে!”
সবাই হা করে তাকাল।
মোরগ কি কখনো ডিম দেয়?
না, দেয় না।
ঘটনা হল, তিন দিন আগে নতুন একটা মুরগি আনা হয়েছিল, আর সেই মোরগটা গিয়েছে তার পিছে পিছে।
আর আম গাছের নিচে বাসা বানিয়ে বিয়ে করেই ফেলেছে!
খা পরিবারের সবাই হাঁসতে হাঁসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
বড় চাচা বললেন,
“এই মোরগটা একদম তোমার বড় ভাইয়ের মতো — প্রেমে পড়লে সব ভুলে যায়!”
সেই ঘটনার পর থেকে খা গোষ্ঠীতে নতুন নিয়ম চালু হল —
“যে প্রেমে পড়ে, তাকে আগে আলতা ভাইয়ের গল্প শোনানো হবে!”