অনেক অনেক বছর আগে, যখন বাড়ির উঠানে আমগাছের ছায়া ছড়িয়ে থাকত, আর কলসিতে পানি তুলে মুখ ধোয়ার পর সবাই মুখে বলত, “আলহামদুলিল্লাহ”—সেই সময়েই এক সাহসী, চুপচাপ কিন্তু সিদ্ধান্তে পাকা মানুষ ছিলেন, বাহার আলী খা।
এমন কেউ, যিনি স্যান্ডেলের এক পাটি হারিয়ে ফেললেও বলতেন,
“ভালই হইছে, পায়ে এখন হাওয়া লাগবে!”
তিনি বিয়ে করলেন। ঘর আলো করল এক ছেলে আর সাতজন চঞ্চল কন্যা।
ওই বাড়িতে প্রতিদিন মনে হতো যেন সাতটা মৌমাছি আর একটা ঢেউচি মাছ একসাথে উঠোনে দৌড়াচ্ছে।
সকালে কেউ চুল বাঁধছে, কেউ জামা খুঁজে পাচ্ছে না, আর কেউ কাঁঠালের বিচি দিয়ে পুতুল বানাচ্ছে।
আর ছেলে? সে নির্ভীক, কিন্তু চুপচাপ। পরিবারের এই সাত রাজকন্যা মিলেই তাকে ফ্যানের নিচে বসিয়ে মাথায় করে রাখে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
একসময় বাহার আলী খা আবার বিয়ে করলেন।
এইবার ইতিহাস ঘুরল উল্টোদিকে—একজন মেয়ে, আর সাতজন ছেলে!
বাড়ির রঙটাই পাল্টে গেল।
নতুন উঠোনে ছেলেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা ছুটছে, মারামারি করছে, আবার পরক্ষণেই সবাই একসাথে মাটির হাঁড়িতে দুধ-ভাত খাচ্ছে।
আর মেয়ে? সে ছিল ঘরের শীতল বাতাস—চুপচাপ, মিষ্টি, কিন্তু কাঁঠাল চুরি হলে সবার আগেই সে চোখ পাকাত।
এই দুই পরিবার—দুই আলাদা ঢেউ, কিন্তু একটাই সাগর।
একসাথে মিলেমিশে যে পরিবেশ গড়ে উঠল, তা যেন এক জীবন্ত বটগাছ—
যার একপাশে ফুল, অন্যপাশে ফল, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাহার আলী খা, এক হাতে লাঠি, আরেক হাতে চায়ের পেয়ালা।