গফুর আলী খানের বংশে অনেকেই চুপচাপ, গম্ভীর স্বভাবের। কিন্তু যখন উঠোনে দাঁড়িয়ে কেউ বলেন,
“এই জমিন আমার, এই ঘাম আমার—আমি হার মানি না!”
তখন সবাই জানে —
নাজিম উদ্দিন খান কথা বলছেন।
তাঁর গলা শুনলে মনে হয় যেন মেঘের গর্জন, অথচ সে গর্জনের মধ্যে আছে দায়িত্বের কোমল ছায়া।
শুধু বড় গলা নয়, তাঁর কণ্ঠে ছিল নেতৃত্ব, সাহস আর সত্য বলার সৎ স্পর্ধা।
শৈশবে মা-বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করতেন। কাঁধে লাঙল, হাতে ধানির বস্তা।
অনেকেই বলে —
“ও বয়সে ধান কেটেছে যতটা, তার চেয়েও বেশি মানুষের মন জিতেছে।”
একবার এলাকায় এক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ায়।
সবাই চুপচাপ, খালি দেখছে।
নাজিম ভাই কি করলেন?
“আগুন নিভেছে, এখন আলো জ্বালার সময়,” — বলেই তিনি নিজের পুরোনো টিন, খাট, দরজা খুলে দিয়ে শুরু করলেন ঘর তোলা।
দুই দিন পরেই পরিবারটা আবার উঠোনে হাঁটছিল।
এলাকায় কেউ অন্যায় করলেই তিনি বলতেন —
“ভয় পাই না, মাথা নিচু করিনি কখনো। সত্য যদি খারাপ লাগে, তাহলে মিথ্যা তো পাপ!”